কোনো কিছু যখন আত্মপ্রকাশের পঞ্চাশ বছর পরেও মানুষের মন থেকে মোছা যায় না তখন সেই সৃষ্টি নিয়ে আলোচনার অবকাশ থেকে যায়। হংসরাজ ছবিটি তেমনই এক সৃষ্টি। ১৯৭৬ সালে যখন এ ছবি মুক্তি পায় তখন বাংলা ছবি ধীরে ধীরে পড়তির দিকে। মহানায়ক উত্তমকুমার তখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ঠিকই, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও মাঝে মাঝে ঝলসে উঠছেন। কিন্ত তেমন যেন মন ভরছিল না। যদিও হংসরাজ যে বছর মুক্তি পেয়েছিল সে বছর দুটি ছবি, একটি উত্তমকুমার অভিনীত বহ্নিশিখা, আরেকটি সুচিত্রা সেন-সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত দত্তা ভালো সফল হয়েছিল। কিন্তু তথাকথিত তারকাবর্জিত আনকোরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তৈরি ছবি হংসরাজ তোলপাড় করে দিয়েছিল। বিশেষ করে মফঃস্্সলে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সারা বাংলা মাতিয়ে তুলেছিল এই ছবির গান। যার বিষয়বস্তু ছিল গ্ৰামের এক গরীব বাউল ছেলের রেডিওতে গান গাইবার সুযোগ পাওয়ার সংগ্ৰামের কাহিনি।
আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যখন রেডিওর সেই জৌলুস আর নেই। টেলিভিশন-মোবাইল-ওটিটি অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে তখনো কোন মন্ত্রশক্তিতে হংসরাজকে পঞ্চাশ বছরেও মানুষ ভুলতে পারেনি? এ তো গবেষণার বিষয়। কিন্তু এরকম ইতিহাস সৃষ্টির পরেও হংসরাজ আজও অবহেলিত। কোনো পত্র-পত্রিকায়, সামাজিক মাধ্যমে সেরকম কোনো উল্লেখ নেই যে হংসরাজ পেরিয়ে এসেছে পঞ্চাশটি গৌরবময় বছর। নিতান্ত সাদামাটা বাহুল্যবর্জিত হলেও তাকে মুছে ফেলা যায়নি। এইরকম উদাসীনতার বাতাবরণে ফিরে দেখা যাক কেমন ছিল পঞ্চাশ বছর আগের সেই দিনগুলি? পাঠকদের সেই অজানা কাহিনি শোনাতে কলম ধরলেন হংসরাজ স্বয়ং।




Reviews
There are no reviews yet.