চলচ্চিত্র কি শুধুই চলমান চিত্রমালার প্রবাহ, নাকি তার মধ্যে ধরা থাকে সময়, স্মৃতি এবং ইতিহাসের অনন্য নথি? এরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে এই গ্রন্থ। এখানে দর্শনতত্ত্বের আলোকে চলচ্চিত্রে সময়ের ধ্বংসাবশেষ, স্মৃতির স্থাপত্য এবং যন্ত্রণার ইতিহাসকে এক গভীর বীক্ষণের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে মানব অভিজ্ঞতার অনন্য সম্পদ।
আলোচনায় উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি, যেমন আন্দ্রেই তারকোভস্কি’র ‘নস্টালজিয়া’, ক্রিস মার্কারের ‘লা জেটে’, আলাঁ রেনের ‘নাইট অ্যান্ড ফগ’, থিয়ো অ্যাঞ্জেলোপুলোসের ‘ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্য মিস্ট’, ভিম ভেনডার্সের ‘উইংস অফ ডিজায়ার’ এবং স্যামি শ্লিংগারবমের ‘ব্রাসেল্স ট্রানজিট’। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্মৃতি ঘিরে তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ এবং ‘মুক্তির গান’-এর মতো সৃষ্টিকর্ম এসেছে আলোচনায়।
এছাড়া টেক্সট, টাইপোগ্রাফি এবং গ্রাফিক্সের মধ্য দিয়ে সময়ের যে নথি নির্মিত হয়, তাও এই বইয়ের বিষয়বস্তুর একটি অংশ। এর জন্য ফিরে তাকাতে হয়েছে জঁ-লুক গোদারের চলচ্চিত্রে। তাঁর ‘ফিল্ম সোশ্যালিজম’-এর চলচ্চিত্র-নির্মাণ খসড়ার অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর আছে, ইরানের এই প্রজন্মের পরিচালক সামিরা মাখমালবাফের ‘ব্ল্যাকবোর্ডস’-এর চিত্রনাট্যের অনুবাদ।
‘চলচ্চিত্র সময় স্মৃতি ইতিহাস’ শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং দর্শন ও সমাজ সম্পর্কিত বিশ্লেষণে আগ্রহী যে-কেউ এর পৃষ্ঠা উলটিয়ে দেখতে পারেন। এই গ্রন্থ সময়, স্মৃতি এবং ইতিহাসকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রীয় ভাষার এক শৈল্পিক ও চিন্তাশীল যাত্রা এবং এক নৈর্ব্যক্তিক প্রয়াস, যা চলচ্চিত্রকে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং একটি গভীর দার্শনিক মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে।




Reviews
There are no reviews yet.